সর্বশেষ আপডেট : ৬ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

রংপুরে গরুর আবাসিক হোটেল

ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::

বাবা আনছার আলীর সঙ্গে হাটে গিয়ে গরু কিনতেন আশানুর ইসলাম (৪৫)। তখন দেখতেন, গরু কেনার পর সেটিকে রাখার জায়গা থাকত না। আবার ঝড়-বৃষ্টি বা রোদ হলে গরু শারীরিকভাবে কষ্ট পেত। এমনও দেখা গেছে যে হঠাৎ করে গরু মারা গেছে। এতে ব্যবসায়ীদের বড় ক্ষতি হতো।

সেই অভিজ্ঞতা থেকে আশানুর ভাবেন, গরু রাখার একটি হোটেল করলে কেমন হয়, যেখানে বিভিন্ন হাট থেকে গরু কিনে ব্যবসায়ীরা রাখবেন। তারপর সময়মতো গন্তব্যে পাঠাবেন। একপর্যায়ে বাবার সঙ্গে পরামর্শ করে গরুর আবাসিক হোটেল খোলার সিদ্ধান্ত নেন আশানুর। যেমন সিদ্ধান্ত, তেমন কাজ। ১০ বছরে আশানুরের গরুর হোটেলের খবর ছড়িয়ে পড়ে দূরদূরান্তের গরু ব্যবসায়ীদের কাছে। তাঁদের কাছে আশানুরের গরুর আবাসিক হোটেল আস্থার জায়গা হয়ে উঠেছে।

রংপুর নগরের মডার্ন মোড় পার হয়ে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে বারো আউলিয়া এলাকায় আশানুরের এ গরুর হোটেল। তবে হোটেলটি আগে ছিল মডার্ন মোড়ের বাঁপাশে। বছর দেড়েক আগে এটি ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের ডানপাশে জায়গা ভাড়া নিয়ে করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের পাশে ৫০ শতক জমিতে টিনের শেড করা হয়েছে। ভেতরে সারিবদ্ধভাবে গরু রাখা হয়েছে। টিনের শেডে বিশেষ ব্যবস্থায় সূর্যের আলো প্রবেশের ব্যবস্থা আছে। গরুর মাথার ওপর ঘুরছে কয়েকটি বৈদ্যুতিক পাখা। সেখানে গরুকে খাবার দিচ্ছেন শ্রমিকেরা। পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে।

আশানুর বললেন, প্রতিদিন ব্যবসায়ীরা রংপুরের বিভিন্ন হাট থেকে গরু কিনে রাতে এখানে রাখেন। এ জন্য গরুপ্রতি ৫০ টাকা নেওয়া হয়। তবে কোরবানির ঈদ ঘিরে গরুর চাপ বেড়েছে। এখন গরুপ্রতি ভাড়া ১০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেল, কোরবানির ঈদের কারণে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দক্ষিণাঞ্চলের গরু ব্যবসায়ীরা রংপুরসহ আশপাশের জেলাগুলোর হাট থেকে প্রতিদিন শত শত গরু কিনছেন। এসব গরুর কিছু সঙ্গে সঙ্গে ট্রাকে করে পাঠানো হচ্ছে। বাকি গরু রাখা হচ্ছে আশানুরের গরুর হোটেলে। এখানে গরুকে খাওয়ানোর জন্য খড় ও ভুসির আলাদা ব্যবস্থাও আছে।

আশানুরের গরুর হোটেলে তিনি ও তার বাবা ছাড়াও ছোট ভাই শাহিন মিয়া, ভগ্নিপতি আলাল মিয়াও দেখাশোনা করেন। শাহিন প্রথম আলোকে বলেন, ব্যবসায়ী মূলত নিরাপত্তার বিষয়টি দেখেন। তাঁরা এ বিষয়ে সতর্ক থাকছেন। এখন পর্যন্ত গরু হারিয়ে গেছে বা এ রকম কোনো সমস্যা হয়নি।

শাহিন মিয়ার সঙ্গে কথা বলার সময় কয়েকজন গরু ব্যবসায়ীকে সেখানে দেখা গেল। সুরুজ মিয়া নামে চট্টগ্রামের এক ব্যবসায়ী বললেন, তারা রংপুরের শঠিবাড়ি, লালবাগ, বেদগাড়ি, বুড়িরহাট, পাওটানা ও লালমনিরহাটের বড়বাড়ি হাট থেকে গরু কিনেছেন। আগে গরু কেনার পর তাদের পরিবহন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়তে হতো। অনেক সময় বেশি টানাটানির কারণে গরু ক্লান্ত হয়ে যেত। এখন গরুর আবাসিক হোটেলে রেখে সুবিধাজনক সময়ে পরিবহন করতে পারছেন।

এমদাদ হোসেন নামে চট্টগ্রামের আরেক ব্যবসায়ী প্রথম আলোকে বলেন, কোনো ব্যবসায়ীর গরু কিনতে তাৎক্ষণিক টাকার প্রয়োজন হলে তিনি ধার দেন। তার সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানের গরু ব্যবসায়ীদের সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা বলেন, এটি ভালো উদ্যোগ। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট থেকে বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা এসে বিভিন্ন হাটে গরু কিনে এখানে রাখেন। পরে পরিমাণমতো হলে গাড়িতে করে নিয়ে যান। গরুর আবাসিক হোটেল হওয়ায় ব্যবসায়ীরা খুব উৎফুল্ল। একই সঙ্গে গরুগুলোকে কম ক্লান্ত হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: